ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ক্ষুব্ধ আমিরাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-০৯ ১১:৪০:৫৭
ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ক্ষুব্ধ আমিরাত ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ক্ষুব্ধ আমিরাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা তৈরি করেছে নতুন সমস্যা। দীর্ঘদিনের অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দেখা দিয়েছে টানাপোড়েন।

পাকিস্তানি শ্রমিকদের ব্যাপকহারে বহিষ্কার শুরু করেছে পারস্য উপসাগরীয় দেশটি। ফলে পাকিস্তানের জন্য কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে ইরান। তবে আমিরাতের ওপর ইরানের হামলার বিষয়ে পাকিস্তান জোরালোভাবে নিন্দা না করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে আবুধাবি।

আমিরাতের বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করা ২০ জনেরও বেশি পাকিস্তানির সাক্ষাৎকার নিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস । তারা সবাই জানিয়েছেন, গত মাসে তাদের হঠাৎ করে গ্রেপ্তার, আটক এবং নির্বাসিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের শিয়া ধর্মীয় নেতাদের ধারণা, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে হাজার হাজার শিয়া পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাকিস্তানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ইরানের সঙ্গে এদের গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।

তবে এই বহিষ্কারের কারণ অস্পষ্ট। উভয় দেশই তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী বলে দাবি করে।

গণহারে পাকিস্তানি নাগরিকদের বহিষ্কারের কথা অস্বীকার করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিয়াদের বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে করা প্রশ্নের কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছেন, শুধুমাত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদেরকেই বহিষ্কার করা হয়েছে। আমিরাত সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত মাসে, সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানকে দেওয়া ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ প্রত্যাহার করে নেয়- যা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সৌদি আরব এগিয়ে এসে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি আমানত দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।

আবুধাবির আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমির জ্যেষ্ঠ ফেলো এবং পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক হুসাইন হাক্কানি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান তাদের সমর্থন না করায় সংযুক্ত আরব আমিরাত হতবাক হয়েছিল। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত অবাক হওয়ায় পাকিস্তানও হতবাক হয়েছিল।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ লাখেরও বেশি পাকিস্তানি বাস করেন, যারা গত বছর ৮০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।

পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধে পাকিস্তান আর কোন পথ বেছে নিতে পারত কি না আমার জানা নেই।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত পাকিস্তানি শ্রমিকরা উভয় সংকটে পড়েছেন বলে মনে হচ্ছে। তারা বলছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সাবেক আইনপ্রণেতা নাদিম আফজাল চান বলেন, পাঞ্জাব প্রদেশে তার জেলায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অন্তত ১০০ জন শ্রমিক দেশে ফেরত এসেছেন, যাদের অধিকাংশই শিয়া।

শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধানত শিয়া অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৯০০ জন ফিরে এসেছেন।

ইসলামাবাদভিত্তিক একটি শিয়া রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা মোহাম্মদ আমিন শাহেদি বলেন, ফেরত পাঠানো পাঁচ হাজার পরিবারকে নিবন্ধন করেছে তার সংগঠন।

তিনি বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে প্রত্যেক শিয়াই ইরানকে সমর্থন করে। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক এতটাই খারাপ যে, পাকিস্তান সরকারকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা বৃথা।’

শাহেদি ও অন্যরা বলেন, ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান সাহায্য করার পর এই বহিষ্কার শুরু হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ